মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম
সজনে পাতার গুড়া একটি বহুমুখী উপকারী সুপার ফুড। এতে প্রায় ৩০০ ধরনের রোগের সমাধান দেওয়ার গুনাগুন রয়েছে। পুষ্টিগুণের দিক দিয়ে এটি ওর অন্য সাধারন খাবারের থেকে অনেক উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও আমাদের আশেপাশে অনেক সজনে গাছ পাওয়া যায়, তবে আমরা এর পাতার উপকারীর দিক সম্পর্কে অজ্ঞ।
আমাদের আজকের লেখায় আমরা মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম এর উপকারিতা ও দাম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। মরিঙ্গা পাউডার আমাদের কি কি উপকার করে স্বাস্থ্যের জন্য তা জানবো। কোন কোন খাবারের সাথে মরিঙ্গা পাউডার মিশিয়ে খাওয়া যায় তা বিস্তারিত
পেজ সুচিপত্রঃ মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম।
- মরিঙ্গা পাউডার কি?
- মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম
- মরিঙ্গা পাউডার এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
- মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার সুবিধা
- মরিঙ্গা পাউডারের দাম
- মরিঙ্গা পাউডার কিভাবে সংরক্ষণ করবেন?
- মরিঙ্গা পাউডারের উপকারিতা
- যেসব খাবারের সাথে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া যায়
-
শক্তি ও পুষ্টির প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে মরিঙ্গা পাউডার
- মুরিঙ্গা পাউডার সম্পর্কে কিছু কথা
মরিঙ্গা পাউডার কি?
প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণে আঁধার সজনে সম্পর্কে আমাদের সবার ধারণা আছে। সজনের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে মরিঙ্গা ওলেইফে। এটি আমাদের দেশের গ্রাম অঞ্চলের অতি সাধারণ একটি ভেষজ উদ্ভিদের নাম। সজনে ডাটা আমাদের দেশে সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এবং সজনে পাতা সাধ হিসেবে খাওয়া হয়।
মরিঙ্গা বা সজনের একটি মাল্টিভিটামিন সুপার ফুড বলা হয় এবং এর গাছ মিরাকেল প্রে হিসেবে সুপরিচিত। সজনে পাতার গোড়ায় অকল্পনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে যা আমাদের গতানুগতিক খাদ্য থেকে অনেক বেশি। বিশেষ করে এতে সকল ধরনের অ্যামিনো এসিড সহ বিভিন্ন প্রকারের খনিজ উপাদান থাকে। তাছাড়া মরিঙ্গা পাউডার ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি সহ অন্যান্য উপাদান থাকে।
সর্বোপরি এই খাবার দেহের জন্য অনেক বেশি পুষ্টি সরবরাহ করে যা অনেকগুলো খাবার
একসাথে খেলো পাওয়া যায় না। অর্থাৎ মরিঙ্গা পাউডার দেহের জন্য পুষ্টিকর পুষ্টি
উপাদানের ভরপুর যে কারণে একে সুপার ফুড হিসেবে অক্ষ্যায়িত করা হয়। নিচে এই
গুড়া খাওয়ার নিয়ম ও এর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম
মরিঙ্গা পাউডার বা সজনে পাতার গুঁড়ো একটি সুপার ফুড। মানব শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল ভিটামিন ও মিনারেল উপাদানের এই পাউডার এ উপস্থিত। পুষ্টিগুণের ওপর ভিত্তি করে পুষ্টি বিশেষজ্ঞগণ প্রতিদিন মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে সকালে, দুপুরে ও রাতে যে কোন সময় এ খাবার খাওয়া যায়।
তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে খালি পেটে ও ভরা পেটে এই পাউডার খাওয়া যাবে। নিজে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সকালেঃ আমরা যদি খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান রক্তের মাধ্যমে দেহের অন্যান্য অংশে পৌঁছায় অর্থাৎ খালি পেটে কোন খাবার খাওয়া হলে তা থেকে পুষ্টিমণ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য খাবারের সাথে খেলে বা ভরা পেটে খেলে উপাদানগুলো পাকস্থলী থেকে দেহের সব জায়গায় পৌঁছাতে সময় বেশি লাগে। এই কারণে বিশেষজ্ঞগণ সকালে খালি পেটে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
রাতেঃ গবেষণায় দেখা গেছে রাতের বেলা মরিঙ্গা পাউডার খেলে তা আমাদের ঘুমের
জন্য অনেক উপকারী। বিশেষ করে রাতে আমাদের শরীরে নানা ধরনের কর্ম যোগ্যতার মধ্য
দিয়ে যায়। এই সময় শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদান
প্রয়োজন পড়ে। সজনে পাতা আমাদের শরীরে এই সকল উপাদান সরবরাহ করে। বিশেষ করে
রাতের বেলা মরিঙ্গা পাউডার দ্রুত হজম হয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ পৌঁছে যাই এবং
ফ্রেশ ঘুম হয়।
আরো পড়ুনঃ অনলাইনের কিভাবে টাকা ইনকাম করবেন
মরিঙ্গা পাউডার এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সাধারণত প্রাকৃতিক খাবারের তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না তবে অতিরিক্ত
মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া হলে কিছু কিছু সমস্যা তৈরি হয়। নিচে সেই সম্ভাব্য সমস্যা
সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আপনি যদি নিয়মিত ব্লাড প্রেসারের ওষুধ খান তাহলে মোরিংগা পাউডার খাওয়া যাবেনা
কারণ মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার পর প্রেসার এমনিতেই কমে যায়। প্রেসারের ওষুধের সাথে
খাওয়ার হলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার প্রেসার ড্রপ করবে। যা স্বাস্থ্য
ঝুঁকি তৈরি করবে।
অতিরিক্ত পরিমাণে সজনে পাতার পাউডার খেলে তা
হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে। অর্থাৎ মরিঙ্গা পাউডার বেশি পরিমাণে খেলে বমি
ভাব, খোদা মন্দ্ অস্থিরতা ও পেটের নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
গর্ভকালীন সময়ে আমাদের অনেক কিছু থেকে সতর্ক থাকতে হয়। সাধারণত সজনে
পাতার সাথে যে ডালগুলো থাকে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো শরীরের প্রবেশ করলে
ক্ষতি করে। এই কারণেই বিশেষজ্ঞ গন গর্ভকালীন সময় মরিঙ্গা পাউডার খেতে মানা করেন।
কিডনিতে কোন সমস্যা থাকলে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। যদিও
দেহের পুষ্টি উপাদান ঠিক রাখার জন্য পরিমাপ পরিমিত মাত্রায় খাওয়া যাবে। তবে
বেশি খেলে তাকে সমস্যা আরো বৃদ্ধি করে দিতে পারে।
যদিও মরিঙ্গা পাউডার রক্তের শর্করা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তবে অন্যান্য ওষুধ বাদ দিয়ে খালি মরিঙ্গা পাউডার খেলে কোন ফল পাওয়া যাবে না।
কারণ এটি সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে প্রতিষেধক হিসেবে নয়।
বিশেষজ্ঞ তথ্যমতে দিনে ৭০ গ্রামের বেশি মরিঙ্গা পাউডার খেলে তার দেহে থাকা
ভিটামিন ও মিনারেল উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে বিষাক্ত করে ফেলতে পারে।
তাছাড়া এটি কিছু কিছু ওষুধের সাথে দ্বিমুখী আচরণ করে দেহের জন্য ক্ষতিকর
করে তোলে।
মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার সুবিধা
নিচে নিয়মিত মরিঙ্গা পাউডার খেলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যাবে ও সুবিধা পাওয়া যায় তা বর্ণনা করা হলো।
আর্সেনিক বিষাক্ততা দূর করে যেভাবেঃ আর্সেনিক আমাদের হার্ট ও ত্বকের জন্য অনেক ক্ষতি করে। গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘ সময় আর্সেনিকের সংস্পর্শে থাকলে তা হার্টের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করে। অন্যদিকে আর্সেনিক স্কিন ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে মরিঙ্গা পাউডার থাকা পুষ্টি উপাদান এই বিষাক্ততা দূর করতে সাহায্য করে।
কোলেস্টেরল কমায় যেভাবেঃ কোলেস্টেরল আমাদের দেহের অনেক ক্ষতি করে। বিশেষ করে এলডিএল কোলেস্টেরল হার্টের বিভিন্ন সমস্যার জন্য দায়ী। তাই নিয়মিত মরিঙ্গা পাউডার খেলে তার রক্তে কোরেস্টেরল কমায়।
প্রদাহ কমায় যেভাবেঃ সজনে পাতার গোড়াই প্রদাহ বিরহী উপাদান থাকে। এগুলো দেহের যেকোনো ধরনের প্রদাহ ও ব্যথা উপশম করতে সহায়তা করে। তাই প্রদাহ কমাতে সজনে পাতার গুড়া খুবই উপকারী।
শর্করার মাত্রা কমায় যেভাবেঃ রক্তে থাকা শর্করা ডায়াবেটিসের মত বড় সমস্যা সৃষ্টি করে। মূলত এটি রক্তে থাকা শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি করে ইনসুলিনের মাত্রা কমায়। যা হার্টের সমস্যা সহ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। তবে নিয়মিত পরিমাণমতো সজনে পাতার গুড়া খেলে তা শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। পক্ষান্তরে এটি ডায়াবেটিস সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধঃ মোরিংগা পাউডার দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এটি শরীরে থাকার রোগ দূর করে ও নতুন রোগ প্রবেশে বাধা দেয়। দেহের ভেতরে জীবাণু উৎপাদন বন্ধ করার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
লিভার সুরক্ষিত রাখে যেভাবেঃ লিভার সিরোসিসসহ লিভারের অন্যান্য রোগ থেকে মরিঙ্গা পাউডার সুরক্ষা প্রদান করে। বিশেষত এই পাউডার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে লিভার ফ্যাটি অ্যাসিড জমা বন্ধ করে। সম্ভাব্য নানা সমস্যা দূর করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে যেভাবেঃ মরিঙ্গা পাউডারে নিয়াজিমিসিন নামে একটি উপাদান থাকে যা ক্যান্সার কোর্স তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করে। যে কারণে শরীরে ক্যান্সার কোষ গঠন হয় না এবং আমরা সফল ধরনের ক্যান্সার থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারি।
পাকস্থলী সমস্যা নিরাময় করেঃ গবেষণায় দেখা গেছে মরিঙ্গা পাউডার প্রায় ৮৫% পাকস্থলীর ক্ষতিকারক অ্যাসিড ধ্বংস করে। যা আলসারসহ পেটের অনেক সমস্যা সমাধান করে। তাছাড়া এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
এজমা ও রক্তচাপ কমায় যেভাবেঃ অ্যাজমা থেকে শুরু করে সর্দি-কাশি সমস্যা সমাধান করার জন্য এ পাউডার পূর্বে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। মোরিংগা পাউডারে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন থাকে যার রক্তে বিভিন্ন উপাদান তৈরি করে। এতে দেহের রক্ত উৎপাদন অনেক বেড়ে যাই। অন্যদিকে এটি অতিরিক্ত রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে যেভাবেঃ সজনে পাতার গুড়ায় থাকা বিটা ক্যারোটিন চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে এদের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া সহ চোখের স্বাস্থ্য উন্নত হয়।
মরিঙ্গা পাউডারের দাম
সজনে পাতার গুড়া একটি সুপার ফুড। সাধারণত এর পুষ্টিগুণের দিক বিবেচনা করে এর দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। তো আপনি যদি ৫০০ গ্রাম মরিঙ্গা পাউডার কিনতে চান তাহলে আপনাকে ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হবে। আপনি যদি ১ কেজি কিনতে চান তাহলে ২৮০ থেকে উপরে ৬০০ পর্যন্ত কিনতে পারবেন।
এছাড়া আপনি সব ভেদে ভেঙে ভেঙে ১০০ গ্রাম থেকে শুরু করে উপরেও কিনতে পারবেন। তবে কেনার সময় অবশ্যই দেখে নিবেন সেখানে খালি পাতা ব্যবহার করা হয়েছে না তার সাথে ডালপালাও ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন তবে পরিচিত অথবা বিশ্বস্ত দোকান থেকে নিলে ঠকে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে না।
উপরিউক্ত আলোচনায় মরিঙ্গা পাউডার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সাধারণত সজনে গাছ আমাদের আশেপাশেই হওয়ার হামেশাই দেখা যায়। আমরা এর গুনাগুন সম্পর্কে জানিনা জন্য কখনোই এই সুপারফুড সম্পর্কে জানতে পারি নাই। আশা করি এই লেখা পড়ে আপনি মরিঙ্গা পাউডার তথা সজনে পাতার উপকারী দিক সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।
আরো পড়ুনঃ বাংলা আর্টিকেল লিখার নিয়ম
মরিঙ্গা পাউডার কিভাবে সংরক্ষণ করবেন?
সজনে গাছ আমাদের আশেপাশে ফর হামেশাই দেখা যায় আমরা এর গুনাগুন সম্পর্কে জানিনা জন্য কখনোই এই সুপারফুড সম্পর্কে অজ্ঞ। সজনে ডাটা আমরা সবজি হিসেবে খেয়ে থাকি। এবং সজনে পাতা শার্ট হিসেবে খাই। সজনে পাতার অনেক গুনাগুন রয়েছে যা অনেকেরই অজানা। সজনে পাতা সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করতে পারলে অনেকদিন যাবত রাখা যায়।
বাছাইকৃত সজিনা পাতা থেকে প্রস্তুত করা হয় মরিঙ্গা পাউডার। ডাল বিহীন পাতা ব্যবহৃত হয়। ভালোভাবে শুকিয়ে সেটাকে ব্লেন্ড করে মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করা হয়। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবে যেন ডালপালা না যায়। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে প্রায় এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।
কোন শপ থেকে যদি মরিঙ্গা পাউডার কিনে থাকেন তাহলে অবশ্যই ভালোভাবে দেখে তারপর কিনবেন। যদি সম্ভব হয় পরিচিত কিংবা বিশ্বস্ত মানুষের কাছে থেকে কিনবেন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন ডালপালা মুক্ত মরিঙ্গা পাউডার যেন হয়।
মরিঙ্গা পাউডারের উপকারিতা
১।পুষ্টির আধার বলে সুপরিচিত এই পাতার গুড়া দেহের শক্তির যোগান দেয়।
২।রাতে ঘুমানোর আগে সজিনা পাতার গোড়া বেশ উপকারী এটি ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক।
৩।এতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান গুলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বহু অংশে।
৪।এটি এন্টি অক্সিডেন্ট এর চমৎকার উৎস এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুন
থাকে।
৫।নারীদের ঋতুস্রাব কালীন সময়ে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
৬।ওজন কমাতে এটি এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
৭।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অপরিসীম।
৮।ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
৯।সজিনা পাতার গুড়া উষ্ণ পানিও হিসেবে সাইনাসের সমস্যার উপশম হয়।
১০।কলেজ টেরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুন কাজ করে এই সজিনা পাতার গুড়া।
যেসব খাবারের সাথে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া যায়
মরিঙ্গা পাউডার এর উপকারী সম্পর্কে কমবেশি আমরা অনেকেই জানি। মরিঙ্গা পাউডার শরীরের জন্য কতটা উপকারী এবং কোন কোন খাবারের সাথে এটি খাওয়া যায় তা হল সরাসরি খাওয়া যায়, চায়ের সাথে, সালাদের সাথে, জুসের সাথে, কেকের সাথে, বড়ি বানিয়ে, মিক্সড ফুডের সাথে।
সরাসরি খাওয়াঃ কোন সম্পূরক খাদ্যের সাথে না মিশিয়ে শুকনো হিসেবে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া যায়। এতে অতি দ্রুত এ পাউডার হজম হয় এবং খাদ্য উপাদান ভেঙে যায়। তবে এভাবে খাওয়া অনেকের কাছে অসুবিধা মনে হয়। কারণ শুকনো পাউডার খাওয়া কখনোই সুখকর নয়। এই ক্ষেত্রে আপনি দুধের সাথে অথবা পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।
চায়ের সাথেঃ যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানীয়। যেকোনো আড্ডায় অথবা অবসর সময়ে আমরা চা খেতে পছন্দ করি। মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার জন্য চা একটি উত্তম মাধ্যম। তাছাড়া চায়ের সাথে এই পাউডার খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত কোন প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া এতে এক্সট্রা কোন খরচ করতে হয় না। এটি চায়ের মধ্যে নিহিত পুষ্টিগুণ আরো বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে গ্রিন টি হিসেবে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া অনেক উপকারি।
সালাদের সাথেঃ সালাদ একটি পুষ্টিকর ডায়েট প্ল্যান। সাধারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভাস থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সালাত অনেক ভালো কাজ করে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে সালাদ খাওয়ার অনেক উপকারী দিক আছে। তবে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার জন্য সব জায়গায় সালাত ব্যবহার করা হয়। এর কারণ এই পাউডার সালাদের সাথে বাড়তি পুষ্টি উপাদান যোগ করে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তাছাড়া এর কোন ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
জুসের সাথেঃ সকাল বেলা জুসের সাথে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া একদিকে উপযুক্ত সময়। এটি আমাদের শরীর যেন ঠান্ডা অসুস্থ রাখে তেমন শরীরের টক্সিক উপাদান গুলো বের করে দেওয়ার কাজ করে। লেবুর শরবতের সাথে সজনে পাতার গুড়া খাওয়া অনেক উপকারি। তবে বিভিন্ন ফলের রসের সাথে মিশিয়েও মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া যায়।
কেকের সাথেঃ আমরা তো সচরাচর বিভিন্ন ধরনের কেক খেতে পছন্দ করি। বিভিন্ন ফ্লেভার অথবা সম্পূরক উপাদান যোগ করে কেক তৈরি করে এরশাদ বৃদ্ধি করা যায়। মরিঙ্গা পাউডার দিয়ে কেক তৈরি করলে তা খেতে যেমন সুস্বাদু হয় তেমনি তা পুষ্টিগুণে কারখানা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাছাড়া কে তৈরি করলে তার দীর্ঘ সময় ধরে নানা সময় খাওয়া যায়।
বড়ি বানিয়েঃ উপরে উক্ত পদ্ধতিতে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া ঝামেলার মনে হলে এটি অতি সহজ পদ্ধতি আছে। যা আপনার সময় অনেক অংশে কমিয়ে দিবে এবং নির্দ্বিধায় উপকারিতা পাবেন। আমাদের দেশে জাতি নেমে পাতা বড়ি বানিয়ে খাওয়া প্রচলন আছে। অনুরূপ মরিঙ্গা পাউডার দিয়ে বড়ি তৈরি করে তা খাওয়া ঝামেলা মুক্ত। এতে আপনি ওষুধের মতো করে সকালে এবং রাতে ওই পাউডার খেতে পারবেন।
মিক্সড ফুডের সাথেঃ হানি নাট, ড্রাই ফুড অথবা মিক্স ফুড যাই বলি না কেন তা
আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। তার সাথে যখন মরিঙ্গা পাউডার যোগ করা হয়
তখন তার গুনাগুন অনেক অংশে বৃদ্ধি পায়। এই কারণে অনেক ক্ষেত্রে হানি নাটের সাথে
মরিঙ্গা পাউডার মিশিয়ে তা খাওয়া যাই।
আরো পড়ুনঃ সকালে খালিপেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা
শক্তি ও পুষ্টির প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে মরিঙ্গা পাউডার
মরিঙ্গা পাউডার সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই জানি। মরিঙ্গা পাউডার পুষ্টি গুনে ভরপুর। বিশেষ করে ডায়েবেটিস রুগিদের জন্য এই মরিঙ্গা পাউডার খুবি উপকারি। মরিঙ্গা পাউডার আমাদের যেসব উপকার করে শরিরের তা হলঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই, হজম বৃদ্ধি করে, পেটের গ্যাস দূর করে, শর্করার মাত্রা কমাই, প্রদাহ কমাই ইত্যাদি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াইঃ মরিঙ্গা পাউডারে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এতে থাকা অ্যামিনো এসিড দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সকল ধরনের শারিরিক দুর্বলতা দূর করে। অন্নদিকে এই গুড়ায় থাকা ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান শরিরের অনুপস্থিত পুষ্টি পুরন করে।
হজম বৃদ্ধি করেঃ সজনে পাতার গুড়াই দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ থাকে। এই খাদ্য আঁশে হজম প্রক্রিয়াই সহায়তাকারি এনজাইম গুলকে সচল করে। এতে লিভারের স্বাস্থ্য যেমন থিক থাকে তেমনি হজম প্রক্রিয়াও সুস্থভাবে সম্পুন্ন হয়।
পেটের গ্যাস দূর করেঃ বেশি তেল জাতীয় খাবার খেলে পেটে আসিডিটি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। পেটের গ্যাস দূর করার জন্য ওষুধের থেকে প্রাকৃতিক উপাই অবলম্বন করা সবথেকে বেশি নিরাপদ। এইদিক বিবেচনা করলে মরিঙ্গা পাউডার পেটের আসিডিটি, প্রদাহ, গ্যাস ইত্যাদি সমস্যা দূর করার জন্য অনেক ভাল কাজ করে।
মুরিঙ্গা পাউডার সম্পর্কে কিছু কথা
উপরিউক্ত আলোচনাই মরিঙ্গা পাউডার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সাধারনত সজনে গাছ আমাদের আশেপাশে হরহামেশাই হয়ে থাকে। আমরা এর গুনাগুন সম্পর্কে জানি না জন্মেই কখনোই সুপারফুড সম্পর্কে জানতে পারিনাই।
সর্বোপরি এই খাবার দেহের অনেক বেশি পুষ্টি সরবরাহ করে যা অনেকগুলো খাবার একসাথে খেলেও তা পাওয়া যাই না। অর্থাৎ মরিঙ্গা পাউডার দেহের জন্য পুষ্টি উপাদানে ভরপুর যে কারনে একে সুপারফুড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
মরিঙ্গা পাউডার বা সজনে পাতার গুড়া একটি সুপারফুড। মানব শরিরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাই সকল ভিটামিন, মিনারেল উপাদান এই পাউডারে উপস্থিত। পুষস্তিগুনের ওপর ভিত্তি করে বিশেশজ্ঞগন প্রতিদিন মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে অবশই মনে রাখতে হবে, খালি পেটে ও ভরা পেটে এই পাউডার খাওয়া যাবে। কিছু নিয়ম মেনে যদি খাওয়া যাই তবে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url